প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 16, 2026 ইং
বরগুনার কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ: তালাবদ্ধ, অনুপস্থিত স্বাস্থ্যকর্মী!!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা: সরকারের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু করা বরগুনার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর অনেকগুলোতেই নিয়মিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও ক্লিনিক তালাবদ্ধ, কোথাও দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী অনুপস্থিত, আবার কোথাও নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারি নির্দেশনার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মীদের ইচ্ছামতো পরিচালিত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার বিভিন্ন ইউনিয়নে মোট ১৩৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এসব ক্লিনিক সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ, পরিবার পরিকল্পনা সেবাসহ ২২ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্লিনিকেই সেই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি বরগুনা সদর উপজেলার খাজুরতলা, কুমড়াখালী ও পাজরাভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে একাধিক অনিয়মের চিত্র দেখা গেছে। গত ৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাজরাভাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে সেটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। একই সময়ে কুমড়াখালী কমিউনিটি ক্লিনিকেও কোনো স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। সরকারি ছুটি না থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় ক্লিনিকগুলো শুক্র ও শনিবার বন্ধ থাকে। এদিকে খাজুরতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অনিয়মের অভিযোগ আরও গুরুতর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ৪ জুলাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) সংগীতা রানী কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে পরদিন ৫ জুলাই অফিসে এসে হাজিরা খাতায় আগের দিনের উপস্থিতির স্বাক্ষরও দিয়েছেন। একই সময়ে দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও স্বাস্থ্য সহকারী জেসমিনও ওই দুই দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্লিনিক খোলা রাখার কথা থাকলেও অনেক ক্লিনিকই দেরিতে খোলা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে শনিবার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়মিত অফিস না করলে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদেরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ সেবাকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত তদারকি, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered