প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 15, 2026 ইং
বিচারকের স্বাক্ষর জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ: বরগুনার এপিপির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বরগুনা প্রতিনিধি (এ্যাড, সোহেল): বিচারকের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জালিয়াতি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বরগুনা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক অভিযোগটি আমলে নিয়ে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, বরগুনা বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের সেরেস্তাদার মীর মাসুদ বাদী হয়ে দণ্ডবিধি আইন ১৮৬০-এর ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং ৪৭১ ধারায় এই মামলাটি দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে দায়েরকৃত একটি চেক ডিজঅনার মামলায় ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ আদালত আসামিকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। নিয়ম অনুযায়ী, আপিল করার সময় আসামি অর্থদণ্ডের অর্ধেক হিসেবে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেন। আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই অর্থ হাতিয়ে নিতে একটি ভুয়া পেমেন্ট অর্ডার তৈরি করা হয়। এতে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের স্বাক্ষর, স্টেনোগ্রাফারের স্বাক্ষর এবং আদালতের প্রয়োজনীয় সিলমোহর হুবহু নকল করা হয়। এই জালিয়াতির মাধ্যমে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে, গত ৫ জুলাই বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক নোটিশে মো. শহিদুল ইসলামকে রাষ্ট্রপক্ষের সব ধরনের মামলা পরিচালনা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে সময় নোটিশে উল্লেখ করা হয়, "বিচারকের স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং বিচারপ্রার্থীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অফিসের মর্যাদা ও সুনাম রক্ষার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" ওই আদেশে তার হেফাজতে থাকা রাষ্ট্রপক্ষের সব মামলার নথি (কেস ডকেট) ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১-এর এপিপি মো. হাবিবুর রহমানের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিচারিক কার্যক্রমে এমন জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর বরগুনার আইনজীবী মহল ও সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিচারিক নথির নিরাপত্তা ও আইনজীবীদের পেশাগত সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। মামলার বিষয়ে বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, "আইনজীবীদের পেশাগত সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা আমাদের দায়বদ্ধতা। এই জালিয়াতির ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর বিচার হওয়া প্রয়োজন।"
বর্তমানে অভিযুক্ত এপিপি মো. শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করায় বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন ---
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered