
বেতাগী প্রতিনিধি: সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে বরগুনা জেলার শীর্ষস্থান অর্জন করেছে বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জন বৃত্তি অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি আবারও জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রেখেছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেতাগী উপজেলার ১৩২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫৮৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করলেও চূড়ান্তভাবে অংশগ্রহণ করে ৩৫৩ জন। তাদের মধ্যে ৯৪ জন বৃত্তি লাভ করেছে। এর মধ্যে ২৮ জন ট্যালেন্টপুল (মেধাবী) এবং ৬৬ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। এছাড়া উপজেলার বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয়ের ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন ট্যালেন্টপুল এবং একজন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। উপজেলা সদরে অবস্থিত বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে অংশ নেওয়া ৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ জনের বৃত্তি অর্জন প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন— তায়েবা তাবাসসুম মৌশী, তাসফিয়া জাহান সামিরা, মরিয়ম আক্তার তাহা, জুনাইরা আক্তার, আরাধ্য কর্মকার, তাসনিয়া তাহিয়া, মাইশা তাবাসসুম মুন, জুঁই বিশ্বাস, নিয়ামা আমিন, মুনের শাহরিয়ার মাহির, মো. আশিক, হোসাইন রহমান, হোসেন শুভ, তাফিম সিকদার এবং মুনতাসির আজমাইন মাহি।
এছাড়াও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্তরা হলেন— মো. আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল মাহিন, সোয়েবা তাসনিম, মেহেরুন নেছা আতিকা, তহুরা রাফিয়া, তাইয়েবা মনি, নোবনিতা শীল, তাসনীন জাহান, পূজা দাস, নাজিহা নাজমিন, কোঠামালা, ফারিয়া ইসলাম, সাইফা ইসলাম তানহা, ইসরাঈল এবং জাহাঙ্গীর আলম।
এই সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী তাসফিয়া জাহান সামিরা বলেন, “এই বৃত্তি আমাকে ভবিষ্যতে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে অনুপ্রাণিত করবে। পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হওয়ার উৎসাহও জুগিয়েছে।”
ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত যমজ ভাইবোন মাইশা তাবাসসুম মুন ও মুনের শাহরিয়ার মাহির বলেন, এই স্বীকৃতি তাদের শিক্ষাজীবনের প্রতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফল করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বিদ্যালয়ের এই সাফল্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার মান আরও উন্নয়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার বলেন, “এই অর্জনের পেছনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিকতা, শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সাফল্য অন্যান্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
উল্লেখ্য, বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষার মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সার্বিক পারফরম্যান্সের জন্য উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে একাধিক সরকারি স্বীকৃতি অর্জন করেছে।