প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
আমতলীতে খাল দখল ও কালভার্টে কৃত্রিম বাঁধ: পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ!

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলীতে প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চাওড়া ও বাসুগী খাল দখল করে গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা, যার ফলে কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ রুদ্ধ করা হয়েছে!
বরগুনার আমতলী পৌর শহরের বাঁধঘাট এলাকায় চাওড়া ও বাসুগী খাল দখলের ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা: স্থানীয়দের অভিযোগ ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে তোলা সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা রক্ষার্থে পরিকল্পিতভাবে চৌরাস্তার কালভার্টের মুখ বালুর বস্তা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে নির্মিত ক্লোজারের পর থেকেই খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হলেও ২০১৫ সালে নির্মিত কালভার্টটি ছিল পানি নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা। কিন্তু স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্বার্থান্বেষী তৎপরতায় গত ১১ বছরে সেই কালভার্ট ও খালের অংশবিশেষ জবরদখল হয়ে যাওয়ায় চাওড়া, কুকুয়া, হলদিয়া ও সদর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা বৃষ্টিপাতে খাল ভরাট ও পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় জনপদ তলিয়ে গিয়ে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে -
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ: স্থানীয় বাসিন্দা নকিব ও খালেক মিয়ার ভাষ্যমতে, দখলদাররা নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা রক্ষার স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে রেখেছেন, যাতে পানি সরতে না পারে। তাদের ভাষ্যমতে, পানি নিষ্কাশিত হলে অবৈধ স্থাপনাগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে, তাই জনদুর্ভোগকে উপেক্ষা করে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও খালের ওপর অবৈধভাবে গড়ে তোলা মাছ বাজার, কসাইখানা ও বসতবাড়ির বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলার ফলে পরিবেশ দূষণ আরো চরমে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অবৈধ দখলদারদের দাপটে সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহসও হারিয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে!
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, কালভার্টের মুখ থেকে দ্রুত বালুর বস্তা সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হান্নান প্রধান দাবি করেছেন যে, অবৈধ দখলদারদের ইতোমধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
চাওড়া ও বাসুগী খালের এই করুণ দশা কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দখলদারিত্বের একটি ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। দ্রুত খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে খনন কাজ সম্পন্ন না করা হলে আমতলীর বিস্তীর্ণ জনপদ স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়বে, যা কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যথায়, পরিবেশগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়বে,,
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered