প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
আমতলী পৌরসভায় নিম্নমানের সড়ক নির্মাণ: জনমনে ক্ষোভ ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ!

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী পৌরসভার আলহেলাল সড়ক থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বরগুনার আমতলী পৌরসভার আলহেলাল সড়ক থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত নবনির্মিত সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে জনমনে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। উন্নয়নমূলক কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কজুড়ে পাথর বেরিয়ে আসা এবং কার্পেটিংয়ের ভঙ্গুর অবস্থা নির্দেশ করছে যে, নির্মাণকাজে শিডিউল অনুযায়ী মান বজায় রাখা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কের প্রশস্ততা ও গভীরতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে ধরনের কম্প্যাকশন বা রোলার ব্যবহারের প্রয়োজন ছিল, তা করা হয়নি। মূলত কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মাথায় সড়কের উপরিভাগের আস্তর উঠে গিয়ে বড় বড় পাথর বেরিয়ে আসায় এই উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিয়ে জনমনে সন্দেহের দানা বেঁধেছে। এটি কেবল একটি সড়কের সমস্যা নয়, বরং পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকির চরম ব্যর্থতার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যবহৃত পাথরের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং কার্পেটিংয়ের পুরুত্ব নিয়ে রয়েছে বিস্তর ফারাক। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্পেটিংয়ের উচ্চতা ধরে রাখার অযুহাতে রোলার দিয়ে পর্যাপ্ত চাপ দেয়নি, ফলে সড়কটি মজবুত ভিত্তি পায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের ভাষ্যমতে, নকশা অনুযায়ী যে স্তরে গুড়া পাথর বা কার্পেটিংয়ের মসৃণ আস্তর থাকার কথা ছিল, সেখানে বড় আকারের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের দাবি, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের এই কারসাজি পৌর প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের চোখের সামনেই সম্পন্ন হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট হয় যে তদারকিতে কোনো এক অদৃশ্য কারণে শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়েছে। রাস্তার এই বেহাল দশা অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সড়ক নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের ভূমিকা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই সরকারি স্পেসিফিকেশন এড়িয়ে বাড়তি মুনাফার লোভে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে থাকে, আর তদারককারী কর্মকর্তাদের নীরবতা সেই অনিয়মকে বৈধতা দেয়। যদিও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা দায়বদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়নি, তবে এলাকাবাসী কঠোরভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, জনগণের করের টাকায় নির্মিত এই সড়কের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যদি যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে পৌরসভার অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলোতেও অনিয়ম ও দুর্নীতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন,,
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered