প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
বরগুনায় ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ পরিদর্শন: দক্ষ জনশক্তির লক্ষ্যে প্রশাসনের গুরুত্বারোপ

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি: গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলমান ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ৭ম ব্যাচের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরগুনার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার ---
বরগুনায় বাস্তবায়নাধীন 'দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ৭ম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ তাছলিমা আক্তার। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষিত বেকার যুবকদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলা। বর্তমান ব্যাচে ৭৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন, যাদের ৩ মাস মেয়াদি এই কোর্সে মোট ৬০০ ঘণ্টার নিবিড় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে টানা ৭৫ দিনব্যাপী এই কারিগরি ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন খুঁটিনাটি শেখানো হচ্ছে, যা তাদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক প্রশিক্ষণার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের মান যাচাই করেন এবং তাদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করেন। প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের শিখন অভিজ্ঞতা এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন ধাপ নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে আলোচনা করেন। এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞানার্জন নয়, বরং হাতে-কলমে কাজ শিখে সাবলম্বী হওয়া। এই প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণার্থীরা যাতে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন না হন, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল অর্থনীতির যুগে ফ্রিল্যান্সিংকে একটি স্থায়ী পেশা হিসেবে গ্রহণের ক্ষেত্রে যে ধরনের কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন, তা এই কোর্সের মাধ্যমে পূরণ করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ফ্রিল্যান্সিং বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত এবং এতে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে নিজের আয়ের পাশাপাশি অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাও সম্ভব। জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার তার বক্তব্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ডিজিটাল দক্ষতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রশিক্ষণ গ্রহণই শেষ কথা নয়, একে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখলেই এই প্রকল্পের মূল সার্থকতা নিহিত থাকবে। এসময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং প্রশিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
পরিশেষে, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বরগুনার বেকারত্ব নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। নিয়মিত তদারকি এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মান বজায় রাখার মধ্য দিয়ে এই যুবকরা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরণের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পথ আরও সুগম হবে এবং ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে বরগুনার যুবকদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রতীয়মান হয়।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered