প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 13, 2026 ইং
বরগুনার রূপালী ব্যাংক থেকে এখনো বেতন পাননি মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের চলতি বছরের মে ও জুন মাসের বেতন ছাড় হলেও ব্যাংকের গাফিলতিতে ৬ দিন পার হলেও বরগুনার শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে এখনো কোনো টাকা জমা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন জেলার শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী -
গত ৭ জুলাই মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) স্বাক্ষরিত দুটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিদপ্তরের আওতাধীন বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মে ও জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতার সরকারি অংশের চারটি চেক বণ্টনকারী অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের স্থানীয় কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৮ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা নিজ নিজ ব্যাংক থেকে বেতন উত্তোলন করতে পারবেন। তবে গত ১২ জুলাই পর্যন্ত বরগুনার মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে বেতনের অর্থ জমা না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে!!
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরাম, বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল হক বলেন,
“বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে প্রায় প্রতি মাসেই টালবাহানা করে বরগুনার রূপালী ব্যাংক! অধিকাংশ সময় সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন বিকেলে বেতন পোস্টিং দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষকরা দুই দিন অপেক্ষা করে টাকা তুলতে বাধ্য হন। অনলাইনের যুগে ঢাকা থেকে টাকা আসতে পাঁচ-সাত দিন সময় লাগার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়!”
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংক বরগুনা কর্পোরেট শাখার ব্যবস্থাপক এস এম মাসুম বলেন,
“শিক্ষকরা দুই মাসের বেতন পাচ্ছেন না, বিষয়টি আমরা জানি। তবে এখনো আমাদের শাখায় অর্থ বরাদ্দ এসে পৌঁছায়নি। টাকা পেলেই দ্রুত তাদের হিসাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে---”
অন্যদিকে রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নাজমুল হুদা বলেন,
“শিক্ষকরা কেন এখনো টাকা পাননি, বিষয়টি আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট শাখা বলছে টাকা পৌঁছায়নি। আগে বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানতে হবে কোথায় সমস্যা হয়েছে!”
এ বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) ড. কে এম শফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমরা ব্যাংকে চেক জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক থেকেই বলা হয়েছিল, একদিন পর শিক্ষকরা বেতন তুলতে পারবেন। যদি এখনো তারা টাকা না পেয়ে থাকেন, তাহলে এটি ব্যাংকের গাফলতি বা ধীরগতির সিস্টেমের ফল হতে পারে। বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।” এদিকে প্রায় দুই মাসের একসঙ্গে বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বকেয়া বেতন তাদের হিসাবে জমা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered