প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 9, 2026 ইং
বরগুনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ

বরগুনা প্রতিনিধি: আজকের পদক্ষেপ, আগামী নিরাপত্তা প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
গত ৯ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার বরগুনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত হয়েছে। আজকের পদক্ষেপ, আগামী নিরাপত্তা প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে আনা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এই আয়োজনে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং পরিবেশ কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক এ,এস, এম কাসেমের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিতিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা ও এর প্রতিকার নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় জনপদ বরগুনার প্রান্তিক মানুষের ভোগান্তি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরেন। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ, বিশ্বব্যাপী শিল্পোন্নত দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণের ফলে বাংলাদেশ আজ জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি শিকারে পরিণত হয়েছে। বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে উঠে আসে যে, বরগুনার মতো উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি, সমুদ্রের লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়া এবং কৃষি জমিতে লোনা পানির প্রবেশ আজ জনজীবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক বোতল ও পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লাসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাদের বক্তব্যে এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বর্তমান নাজুক অবস্থার বিষয়ে আলোচনা করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্লাস্টিক দূষণ রোধে কঠোর নজরদারির দাবি জানান। পরিবেশ কর্মী আরিফুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, শুধুমাত্র দিবস পালনে সীমাবদ্ধ না থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার প্রক্রিয়া জোরদার করা জরুরি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ আজিজ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস, পরিবেশ নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনের সদস্য বৃন্দ।
উক্ত সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহিন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান, ইসলামি আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুর শাকুরসহ অন্যান্য পরিবেশ কর্মী ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকগণ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। প্রধান অতিথি এ,এস, এম কাসেম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে পাঁচ কোটি বৃক্ষ রোপণের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া উপকূলীয় এলাকায় পানির সংকট নিরসনে ও কৃষিজমি রক্ষায় খাল খনন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সভায় উপস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান জানান, টেকসই বেড়িবাঁধ ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে প্রশাসন কাজ করছে। জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা হেমায়েত মাহমুদ পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বরগুনার বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে যে ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তার রূপরেখা প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে অচিরেই বাজার মনিটরিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণা আরও বেগবান করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এই আয়োজন বরগুনার জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হলেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করছে মাঠপর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের ওপর। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এই জেলায় বৃক্ষ রোপণ ও খাল খননের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের এই উদ্যোগসমূহ যদি কেবল আলোচনা সভার গণ্ডিতে আবদ্ধ না থেকে বাস্তবে রূপ নেয়, তবেই বরগুনার পরিবেশ সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমেই কেবল পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলা সম্ভব, যা উপকূলীয় জনপদকে দীর্ঘমেয়াদী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered