প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 8, 2026 ইং
তালতলীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ব্যক্তিগত বসবাসের অভিযোগ!

তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলার পশ্চিম শারিকখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রবের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সরকারি ভবনকে ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক, জমিদাতা ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা মো. নাসির মেম্বারসহ স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের ভবনেই বসবাস করছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের জন্য নির্মিত সরকারি ভবন ব্যক্তিগত আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করা সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের শামিল।
অভিযোগকারীরা বলেন, “সরকারি অর্থে নির্মিত বিদ্যালয় ভবন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বাসস্থান হতে পারে না।” তারা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, প্রধান শিক্ষক স্থায়ীভাবে বিদ্যালয় ভবনে বসবাস করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নাকি বলেন, “আমি সরকারকে ভাড়া দিয়েই থাকি।” তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি ভাড়া দিয়েই থাকেন, তাহলে সেই অর্থ কোন সরকারি খাতে জমা হচ্ছে এবং এর অনুমোদনই বা কে দিয়েছেন?
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্দুর রব বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়েই বিদ্যালয়ের ভবনে অবস্থান করছেন। তবে লিখিত অনুমতিপত্র দেখানোর অনুরোধ করা হলে তিনি তা উপস্থাপন করতে পারেননি। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল বাশারের কার্যালয়ে গেলে দুপুর সাড়ে ১২টায়ও তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কল কেটে দেন। ফলে এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যালয় ভবন ব্যক্তিগত ব্যবহারমুক্ত করা এবং শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
তবে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন হিসেবে বিবেচিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered