প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 6, 2026 ইং
আদালতের নির্দেশে রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ!

আমতলী প্রতিনিধি (বরগুনা): বরগুনার আমতলীতে আদালতের নির্দেশে রোপণ করা ধানের চারা রাতের আঁধারে উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় জমির মালিক বৃদ্ধ অহেদ মুসুল্লী ও তাঁর স্বজনদের দুই দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখারও অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় রবিবার রাতে অহেদ মুসুল্লীর ভাই ছালাম মুসুল্লী আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আমতলী উপজেলার পশ্চিম কলাগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা অহেদ মুসুল্লী ও তাঁর চার ভাই পৈতৃক সূত্রে ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ জমির মালিক। তাঁদের দাবি, প্রায় ১০০ বছর ধরে তারা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে ২০২১ সালে গুলিশাখালী ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ঘোষিত ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলতাফ আকন, সেলিম আকন, খবির আকন ও দেলোয়ার আকন জোরপূর্বক জমিটি দখল করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। পরে এ বিষয়ে বরগুনার আদালতে মামলা দায়ের করেন অহেদ মুসুল্লী। অহেদ মুসুল্লীর ভাষ্য অনুযায়ী, মামলায় তাঁদের পক্ষে রায় হলেও প্রতিপক্ষ আদালতের নির্দেশ মানেননি। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আদালত তাঁদের জমিতে চাষাবাদের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী শুক্রবার জমিতে চাষাবাদ শেষে ধানের চারা রোপণ করা হয়। কিন্তু একই রাতেই আলতাফ আকন, সেলিম আকন ও তাঁদের সহযোগীরা রোপণ করা ধানের চারা উপড়ে ফেলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, শনিবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে আলতাফ আকন ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে এবং তাঁর স্বজনদের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পাশাপাশি বাইরে বের হলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরে রবিবার রাতে তাঁর ভাই ছালাম মুসুল্লী বাড়ি থেকে বের হয়ে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অহেদ মুসুল্লী।
গত সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আদালতের নির্দেশে রোপণ করা জমির ধানের চারাগুলো উপড়ে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, গত পাঁচ বছর ধরে আলতাফ আকন, সেলিম আকন ও তাঁদের লোকজন জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। আদালতের নির্দেশে শুক্রবার ধানের চারা রোপণ করা হলেও রাতের আঁধারে সেগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত আলতাফ আকন ধানের চারা উপড়ে ফেলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ওই জমি আমাদের। আমাদের জমি আমরা চাষাবাদ করেছি।” আদালতের নির্দেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered