প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 4, 2026 ইং
আমতলীতে ডিজিটাল ভূমি জরিপে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

মহিবউল্লাহ কিরন, আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলার ২নং কুকুয়া ইউনিয়নের ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রমে ঘুষ দাবি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত শুক্রবার ৩রা জুলাই বিকাল ৪ ঘটিকায় মহিষকাটা বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহস্রাধিক কৃষক ও ভূমি মালিক অংশগ্রহণ করেন। উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুয়া ইউনিয়নের ২০১৬ সালের জুলাই মাসে ডিজিটাল ভূমি জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরু থেকেই জরিপ কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে এক ব্যক্তির জমি অন্যের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগ করে আসছেন ভূমি মালিকরা।
বর্তমানে এসব অভিযোগ ব্যাপক আকার ধারণ করায় এবং অনিয়ম বন্ধের দাবিতে শুক্রবার বিকালে সহস্রাধিক কৃষক মহিষকাটা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয় কৃষক মো,আলী আকব্বর এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সমাজসেবক মো,নজরুল মাতুব্বর, মো,রসায়ান মুরাদ,ছালাম সিকদার, মো,রুহুল আমিন,জয়নাল সিকদার সহ আরো অনেকে,বক্তারা অভিযোগ করেন, আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে ডিজিটাল ভূমি জরিপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি ঘুষের বিনিময়ে একজনের জমি অন্যজনের নামে রেকর্ড করে দিচ্ছেন। এছাড়া একটি খতিয়ানকে অযৌক্তিকভাবে একাধিক খতিয়ানে বিভক্ত করে পরে তা সংশোধনের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, টাকা ছাড়া অফিসে কোনো কাজই হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী কৃষক মো. ছালাম সিকদার বলেন, “আমার পাচটি খতিয়ান ভেঙে ১২০টি খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। পরে সংশোধনের জন্য অফিসে গেলে আমার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।”
”কৃষক নজরুল মাতুব্বর বলেন এই জরিপের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগে একটি মামলা করেছি, মামলাটি চলমান আছে। যার নম্বর ৪৮৬৫, হাই কোট বিভাগ জরিপের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে রুল জারি করে জরিপ বন্ধ করে দেন। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে জরিপ কর্তৃপক্ষ পুনরায় ৮/১০ দিন পূর্বে পুনরায় জরিপ কার্যক্রম চালু করলে স্থানীয় কুকুয়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক কৃষক মিলিত হয়ে মহিষকাটা বাজারে জরিপ বন্ধের জন্য ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন পালন করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমতলী উপজেলা সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।”
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered