প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 2, 2026 ইং
বরগুনায় যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত

বরগুনা প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বরগুনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত গত ২ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য নজরুল বর্ষ পালন করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। কবি নজরুলের বিদ্রোহী চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত এই আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কবির কর্মময় জীবনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যা স্থানীয় পর্যায়ে নজরুল চর্চার একটি ইতিবাচক ধারাকে বেগবান করেছে। জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততা কবির প্রতি রাষ্ট্রের শ্রদ্ধাবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আলোচনা পর্বে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তারসহ বিশিষ্ট বক্তারা কবির জীবন ও দর্শনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিভিল সার্জন আবুল ফাত্তাহ, এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম তাদের বক্তব্যে কবির সাহিত্যকর্মের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোকপাত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান ও সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হারুন অর রশিদ রিংকুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজী নজরুলের বিদ্রোহী সত্তা ও সাম্যবাদী দর্শনের গভীরতা তুলে ধরা হয়। বক্তারা উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ের অস্থিরতা ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক দর্শন চর্চা অপরিহার্য, কারণ তাঁর কবিতা ও গান প্রতিনিয়ত অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে টিকে আছে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বরগুনার জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, কাজী নজরুল ইসলাম কেবল একজন কবি নন, বরং তিনি বিদ্রোহ, সাম্য ও মানবমুক্তির এক অনন্য প্রতীক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ধর্মের নামে উগ্রবাদ নয় বরং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবতার যে বার্তা কবি তাঁর সাহিত্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা আধুনিক সমাজ গঠনে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসনের তরফ থেকে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যাতে করে তরুণ প্রজন্ম কবির আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি মানবিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারে। জেলা কালচারাল অফিসারের সমন্বয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক রূপ পরিগ্রহ করে, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে কবির দর্শনের প্রতি নতুন করে আগ্রহ সঞ্চার করতে সক্ষম হয়েছে। জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী পালনের মধ্য দিয়ে বরগুনার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে যে উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, তা ভবিষ্যতে জেলাটির সামগ্রিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। নজরুল বর্ষ উদযাপনের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং কবির অসাম্প্রদায়িক ও সাম্যবাদী চেতনাকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর পদক্ষেপ। নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের যে চর্চা শুরু করেছে, তা সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বরগুনার সচেতন মহলের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা অব্যাহত থাকলে তা একটি সুস্থ ও সৃজনশীল সমাজ গঠনে অনন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered