প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 1, 2026 ইং
বরগুনায় ফি বকেয়া থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় UNO-এর হস্তক্ষেপে পরীক্ষা গ্রহণের নির্দেশ

বরগুনা প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে সেশন ফি বকেয়ার দায়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, যা পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সমাধান করা হয়েছে।
বরগুনার তালতলী উপজেলার বগীহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেশন ফি বকেয়া থাকার অজুহাতে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশির চন্দ্র শীলকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে নির্ধারিত পরীক্ষা চলাকালীন শ্রেণি শিক্ষক শ্রী আকাশ শিক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র প্রদান না করে পরীক্ষা কক্ষ থেকে বের করে দেন। বগীহাট এলাকার বাসিন্দা শংকর চন্দ্র শীলের ছেলে শিশির চন্দ্র শীল আর্থিক সংকটের কারণে সেশন ফি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় তাকে এই চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মানুবর্তিতার নামে একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকে বাধাগ্রস্ত করার এই ঘটনা দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিক স্খলন ও অমানবিক আচরণের একটি নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিভাবক শংকর চন্দ্র শীল অভিযোগ করেন যে, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সেশন ফি বকেয়া থাকায় তার ছেলেকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয়নি। তিনি বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে বারবার অনুরোধ করলেও কোনো সদুত্তর পাননি, যার ফলে শিশির পরীক্ষা না দিয়েই হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এ বিষয়ে শ্রেণি শিক্ষক শ্রী আকাশের দাবি, কর্তৃপক্ষের কঠোর নির্দেশনার কারণেই তিনি সেশন ফি পরিশোধ না করা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেননি। তবে শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, কোনো অবস্থাতেই একজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা আইনত সমর্থনযোগ্য নয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এমন কঠোর ও অনমনীয় আচরণে ওই শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পাশাপাশি তার একাডেমিক ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলতার অভাবকেই নির্দেশ করে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইদ্রিসুর রহমান তাৎক্ষণিকভাবে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা টিপু সুলতান জানান, বিষয়টি তাদের নজরে আসার পর থেকেই তারা ঘটনার তদন্ত ও সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নির্দেশ দিয়েছেন যে, বকেয়া ফি সংক্রান্ত জটিলতা সত্ত্বেও ওই শিক্ষার্থীর বাদ পড়া পরীক্ষাটি আগামী শনিবার বিশেষ ব্যবস্থায় গ্রহণ করা হবে এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলো যাতে সে নির্বিঘ্নে দিতে পারে, সেই নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়। সামগ্রিকভাবে, বগীহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই ঘটনাটি শিক্ষা খাতে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও মানবিক আচরণের মধ্যে ভারসাম্যহীনতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেশন ফি বা বকেয়া আদায়ের জন্য একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষা অর্জনের অধিকার হরণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, যা জাতীয় শিক্ষানীতির পরিপন্থী। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে সাময়িক সমাধান পাওয়া গেলেও, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই অসংবেদনশীল আচরণ ভবিষ্যতে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। শিক্ষার প্রসারে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত আর্থিক বিষয়গুলোকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা, যাতে কোনো শিশুই পরীক্ষার হল থেকে বঞ্চিত না হয়।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered