প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 30, 2026 ইং
তালতলীতে ঘটনাস্থলে না থেকেও মারধরের মামলায় দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী আসামি: সংবাদ সম্মেলন

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলী উপজেলায় একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ ও জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা মারধরের মামলায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় তালতলী প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান- অভিযোগে বলা হয়, আসামি হওয়া দুই শিক্ষার্থী হলেন উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হেলেঞ্চাবাড়িয়া এলাকার ইউপি সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ানউল্লাহর ছেলে রায়হান সাকিব, যিনি আমতলী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং একই এলাকার আশরাফ তালুকদারের ছেলে মো. নাইম, যিনি কড়ইবাড়িয়া কারিগরি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৫১ নম্বর হেলেঞ্চাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ৮ জুন স্থানীয় বাসিন্দা নুর সাইদ আকন ও মাসুম সরদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১১ জুন মাসুম সরদারের বাবা আশ্রাফ হোসেন সরদার বাদী হয়ে তালতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ রেদওয়ানউল্লাহসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন দুই এইচএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান সাকিব ও মো. নাইম। সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ঘটনার সময় রায়হান সাকিব কড়ইবাড়িয়া বাজারে এবং মো. নাইম ঘটনাস্থল থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে তালুকদার বাড়ির খাসপুকুরপাড় এলাকায় অবস্থান করছিলেন। মারামারির ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা আরও জানান, ২০২২ সালেও একই বাদীর সঙ্গে গ্রামের অজেত তালুকদারের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের একটি মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছিল। পরে পুলিশি তদন্তে ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান সাকিব ও মো. নাইম বলেন, “আমরা বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন ডিফেন্স বাহিনীতে চাকরির জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় আমাদের আসামি করেছে। ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “আপনাদের মাধ্যমেই আমরা জানতে পেরেছি যে তারা এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তদন্তে যদি তাদের মারামারির ঘটনায় সম্পৃক্ততা না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।”
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered