প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 27, 2026 ইং
আমতলী ইউএনও অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী চিন্ময়: ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আখড়া

আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী চিন্ময় হাওলাদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্ত্রীকে ভুয়া নিয়োগ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে! বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী চিন্ময় হাওলাদারের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বরগুনা-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভুর আত্মীয় পরিচয়ে সুপারিশের মাধ্যমে পাথরঘাটা থেকে আমতলী ইউএনও অফিসে প্রেষণে বদলি হয়ে আসেন তিনি। এরপর থেকেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমপির নাম ভাঙিয়ে তিনি তার স্ত্রী তুলি রানীকে কুকুয়া ইউনিয়নের কুতুবপুর ইসরাইলিয়া স্বতন্ত্র মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে অবৈধভাবে নিয়োগ পাইয়ে দেন। সরকারি দপ্তরের কর্মচারী হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের স্ত্রীর জন্য এমন অনৈতিক সুবিধা আদায় করা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই ঘটনার মাধ্যমে একটি সরকারি দপ্তরের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, চিন্ময় হাওলাদার নিয়োগের সময় প্রলোভন দেখিয়েছিলেন যে, তার স্ত্রীকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিলে তিনি দরবারের উন্নয়নে টিউবওয়েল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের সরকারি অনুদান পাইয়ে দেবেন। মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান গোলাম কিবরিয়া জানান, পেছনের তারিখ ব্যবহার করে তুলি রানীর নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলেও আজ পর্যন্ত কোনো টিউবওয়েল বা অনুদান পাননি তারা। উপরন্তু, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তুলি রানী একদিনও মাদ্রাসায় উপস্থিত হননি। অথচ সার্টিফিকেট সহকারী পদে কর্মরত চিন্ময় হাওলাদার আমতলীতে একটি বিলাসবহুল ভাড়া বাসায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও দামী আসবাবপত্রসহ আয়েশি জীবনযাপন করছেন। তার এই বিলাসবহুল জীবনযাত্রা এবং সরকারি বেতনের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যয় নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা এই কর্মকর্তার এমন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক দপ্তরের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে চিন্ময় হাওলাদার কৌশলী উত্তর দিয়ে নিজের স্ত্রীকে চাকরি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি চাকরি হওয়ার আশায় তিনি এই পথ বেছে নিয়েছিলেন, তবে এখন তিনি স্ত্রীকে মাদ্রাসায় যেতে নিষেধ করেছেন। যদিও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে, প্রেষণে বদলি হয়ে আসার তিন বছর পার হলেও এখনো আমতলী ইউএনও অফিসে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন চিন্ময়। ছাত্রজীবনে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার সুবাদে এখনো স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের সাথে তার গোপন যোগাযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বশীল পদে থেকে রাজনৈতিক দালালি ও দুর্নীতির এমন নজির আমতলী উপজেলা প্রশাসনের জবাবদিহিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। চিন্ময় হাওলাদারের মতো কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি সেবার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করছে। একজন সার্টিফিকেট সহকারীর প্রভাব যদি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ও সরকারি অনুদান নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে সাধারণ মানুষ যে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে তা স্পষ্ট। প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নজরদারি না থাকায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এমন দুর্নীতিবাজরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা পরিবহন বা উন্নয়নমূলক খাতের মতো প্রশাসনিক সেবা খাতকেও অচল করে দিতে পারে। অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত চিন্ময়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং তার অবৈধ সম্পদ ও রাজনৈতিক যোগসাজশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা, যাতে সরকারি দপ্তরের কাজের পরিবেশ ও সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered