প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 25, 2026 ইং
বামনায় ইটভাটার চিমনিতে গাছের পাতা ঝরে পড়ছে, মাছ মরছে; পরিবেশ বিপর্যয়!

বামনা প্রতিনিধি: বরগুনার বামনা উপজেলার পূর্বসফিপুর গ্রামে একটি ইটভাটার চিমনি পরিষ্কারের পর আশপাশের পরিবেশে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষাক্ত ধোঁয়া, ছাই ও ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ায় গাছের পাতা শুকিয়ে ঝরে যাচ্ছে, পুকুরে মাছ মারা যাচ্ছে এবং মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন গাছের পাতায় কালচে ধূলিকণার স্তর জমে রয়েছে। অনেক গাছের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। ইটভাটার আশপাশের বিভিন্ন জলাশয়েও মাছ মরে ভেসে ওঠার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মালিকানাধীন এমকেএস ব্রিকস বর্তমানে ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছেন সাইফুল্লাহ নেছার। সম্প্রতি চিমনি পরিষ্কারের সময় জমে থাকা বিষাক্ত ছাই ও ধূলিকণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করেছে।
স্থানীয় কৃষক মনির হোসেন বলেন, জনবসতির পাশে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার কারণে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চিমনি পরিষ্কারের পর থেকেই এলাকার গাছপালার পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, আগে কখনও এমন ঘটনা দেখা যায়নি। গাছের পাশাপাশি মাছও মারা যাচ্ছে এবং অনেকের শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেছে। দ্রুত এর প্রতিকার প্রয়োজন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ইটভাটার চিমনিতে জমে থাকা সূক্ষ্ম ধূলিকণা, ব্ল্যাক কার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন যৌগ নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে গাছের পাতায় জমে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এতে গাছের পাতা ঝরে পড়া এবং পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে এমকেএস ব্রিকসের পরিচালনাকারী সাইফুল্লাহ নেছার ও মালিক হুমায়ুন কবির হাওলাদারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. নিকহাত আরা জানান, ইটভাটাটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি পরিবেশ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় তদন্ত ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্থানীয়দের দাবি, জনবসতির মধ্যে পরিচালিত ইটভাটাগুলোর পরিবেশগত প্রভাব দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জনস্বাস্থ্য আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered