প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 21, 2026 ইং
তালতলীতে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি: ২১ নারীর মধ্যে ১৭ জনেরই চর্মরোগ!!

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি | বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়ী ইউনিয়নের বড় অংকুজান পাড়া ও আশপাশের এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দূষণের কারণে স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উঠান বৈঠকে অংশ নেওয়া ২১ জন নারীর মধ্যে ১৭ জন চর্মরোগ ও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গত শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৫টায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন নতুনপাড়া এলাকায় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এবং পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে এ উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় নারীরা অভিযোগ করেন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকে এলাকায় চুলকানি, অ্যালার্জি, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক পরিবার আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিতে পারছে না বলেও জানান তারা। স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত দূষিত পদার্থ ও গরম পানি পায়রা নদীর জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ফলে নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ায় জেলে পরিবারগুলো জীবিকা সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে টেংরাগিরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং আশপাশের কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সময় অনেক পরিবার উচ্ছেদের শিকার হলেও এখনো পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন পরিবেশ ও জলবায়ু সাংবাদিক এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের পরিচালক কেফায়েত শাকিল। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পরিবেশগত অধিকার ও মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। পরিবেশ আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প পুনর্বিবেচনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered