প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং
বরগুনার তালতলীতে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খেয়াঘাট দখল করে বালু ব্যবসার অভিযোগ!

তালতলী প্রতিনিধি: বরগুনার তালতলীতে প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, বালু ব্যবসা ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার ক্ষমতার অপব্যবহারে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সুবিধা বিতরণেও অনিয়ম হচ্ছে।
বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোট বগী ইউনিয়নের বগী খেয়াঘাট এলাকায় সরকারি জমি দখল করে বালু ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রুহুল আমিন ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সরকারি জমি দখল করে সেখানে বালু মজুত ও উত্তোলনের ফলে একদিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফলে খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের যাতায়াত চরম সংকটের মুখে পড়েছে এবং সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের ভাষ্যমতে, বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী মাহিন্দ্রা গাড়ির চাপে খেয়াঘাটের সংযোগ সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই পথ ব্যবহার করে বরগুনা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন, কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে এখন নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় দোকানদারদের অভিযোগ, বালুর ধুলায় বাতাস দূষিত হওয়ায় ক্রেতারা বাজারে আসতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে প্যানেল চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চাল বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অনেক কার্ডধারী জেলে তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান রুহুল আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বরং বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাতের প্রস্তাব দেন। এহেন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খেয়াঘাট দখল, সড়ক ভাঙন এবং সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের বিষয়গুলো এখন তাদের নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে। এই ধরণের অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কেবল জনদুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং স্থানীয় অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি জমি দখল ও বালু ব্যবসার মতো কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও ব্যবসায়িক পরিবেশ যে স্থবিরতার দিকে যাচ্ছে, তা নিরসনে জরুরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে সরকারি সম্পদ পুনরুদ্ধার করা না হলে পরিবহন খাতে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে। জনস্বার্থে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করাই এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র দাবি।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered