প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 30, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং
বরগুনায় প্রতারণা করে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক নারী আটক!

আমতলী (বরগুনা) প্রতিবেদক (এইচ. এম. রাসেল): বরগুনার আমতলী উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জাকিয়া সুলতানা নামের ৩৫ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে বরগুনা সদরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানা আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি গভীর নলকূপ স্থাপন, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিএফ-ভিজিডি কার্ড এবং বয়স্ক, বিধবা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করেন। তার এই প্রতারণা চক্রটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে গত এক বছর ধরে সক্রিয় ছিল, যা শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের সম্মিলিত অভিযোগের মুখে উন্মোচিত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জাকিয়া সুলতানা সরকারি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে জসিম মিয়া, রুস্তম মৃধা, ফিরোজা বেগম ও নুরজাহান বেগমসহ অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, টাকা জমা দেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো সরকারি সুবিধা পাননি। বরং যখনই তারা তাদের পাওনা সুবিধা বা টাকা ফেরত চেয়েছেন, তখনই জাকিয়া বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেছেন এবং একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানান। প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে মাহফুজা বেগম, পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগমসহ অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি দপ্তরের নাম ব্যবহার করায় তারা প্রথমদিকে জাকিয়াকে বিশ্বাস করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তার আচরণে সন্দেহ সৃষ্টি হলে বিষয়টি নিয়ে তারা অনুসন্ধানে নামেন এবং প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমতলী থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অভিযুক্ত জাকিয়া সুলতানার অবস্থান শনাক্ত করে এবং বরগুনা সদরের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে। আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে জালিয়াতির বিষয়টি উঠে এসেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং এই প্রতারণা চক্রের সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার ফলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে জালিয়াতির এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো একটি অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জাকিয়া সুলতানার গ্রেপ্তারের পর এখন ভুক্তভোগীরা তাদের হারানো অর্থ ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এই ধরনের প্রতারণা কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, বরং সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রতি মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে নজির হিসেবে কাজ করবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।
© Copyright © dailyseshkatha © Seshkatha News24 © 2026 all rights reservered