প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 14, 2026 ইং
বরগুনায় ছাত্রশিবিরের অপরাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: গুমের নাটক

বরগুনা জেলা প্রতিনিধি : রবিবার ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বরগুনা সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এবং একই দিন সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাথরঘাটা কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের উদ্যোগে পৃথক দুটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বরগুনা জেলা ছাত্রদল এবং পাথরঘাটা উপজেলা, পৌর ও কলেজ শাখার ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিগুলোতে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল, ছাত্রশিবির কর্তৃক পরিকল্পিতভাবে গুম ও অপহরণের নাটক সাজিয়ে প্রকৃত গুমের শিকার ভিকটিমদের অবমাননা করা হচ্ছে। একইসাথে, অনলাইনে সংঘবদ্ধভাবে সরকারকে মিথ্যা দোষারোপ এবং গুপ্ত নেতাকর্মীদের দ্বারা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো ঘৃণ্য অপরাধ সংঘটনের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
বরগুনা সরকারি কলেজে জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সানাউল্লাহ সানি ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম রনির নেতৃত্বে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে, অন্যদিকে পাথরঘাটায় সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম শরীফ ও পৌর সভাপতি মাহাবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় তারা “গুমের নাটক করে যারা, দেশ বিরোধী শত্রু তারা, শিবিরের মূলনীতি ভন্ডামি আর মুনাফেকি, শফিক তুই রাজাকার, ধর্ষকদের পাহারাদার, ধর্ষকদের আস্তানা ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও” সহ নানান শ্লোগান দেন। এছাড়াও বরগুনা জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সানাউল্লাহ সানি বলেন, ছাত্রশিবির যে একটি ধর্ষকদের দল তা তারা বার বার প্রমাণ করে। ১৯৭১ সালে তারা রাজাকার, আল বদর, আল শামস ও তাদের ছাত্রসংঘ এদেশের আপামর জনসাধারণের উপর নির্মম নির্যাতন ও ধর্ষন করে। আমরা এখনও দেখতে পাচ্ছি এই ছাত্রশিবির প্রতিনিধি নারীদের অবমাননা করছে এবং এখন তাকা ধর্ষকরূপে আবির্ভাব হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অতিদ্রুত এই ধর্ষকদের বিচারের দাবি জানায়। বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ আবু হানিফ বলেন, ছাত্রশিবিরের একজন কেন্দ্রীয় নেতা এক বিধবা নারীর সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ সম্পর্ক করে। সর্বশেষ জোরপূর্বক ওই নারীর ভ্রূণ নষ্ট করে। যার ফলশ্রুতিতে ওই নেতা নিজেকে আত্মগোপন করে এবং মিথ্যা গুমের নাটক সাজায়। মিথ্যা নাটক সাজিয়ে সেটা বিএনপি সরকারের উপর দায় চাপায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা অতিদ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে এই সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানাই।
বিক্ষোভ চলাকালে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলছে এবং গুমের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, ছাত্রশিবিরের ছত্রছায়ায় থাকা কতিপয় গুপ্ত নেতাকর্মী এলাকায় নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভুক্তভোগী মহলের ভাষ্যমতে, অনলাইনে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে তারা কেবল সরকারকে বিব্রত করছে না, বরং প্রকৃত গুমের শিকার পরিবারগুলোর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে নিজেদের অপরাধ ঢাকতে 'গুমের নাটক' সাজাচ্ছে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে তারা ছাত্র রাজনীতির কলঙ্ক হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাথরঘাটা ও বরগুনা সদরের কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের এই ব্যাপক উপস্থিতিকে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক মেরুকরণের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করেছেন যে, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। তারা দাবি করেছেন, স্থানীয় কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে এ ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড ও অপরাধমূলক প্রবণতা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। ছাত্রদলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের মতে, যদি এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা বা নজরদারির অভাবকেই তারা এই ধরনের অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বরগুনার কলেজ ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের এই বিক্ষোভ কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি স্থানীয় পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতার বিরুদ্ধে এক ধরনের সতর্কবার্তা। ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে আনীত গুমের নাটক ও নারী নির্যাতনের অভিযোগগুলো যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা অত্র এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগের এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তবে তা বরগুনার সামগ্রিক জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন