প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 13, 2026 ইং
বরগুনায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিমানে গৃহবধূর আত্মহত্যা:

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরগুনা: বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে স্বামীর বিরুদ্ধে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে ও আলাদা সংসার গড়ার অভিযোগে অভিমান করে কনা (৩০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার (১২ জুন) গভীর রাতে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। পরেরদিন শনিবার সকালে তার ছেলে ঘরে মায়ের মরদেহ দেখতে পায়।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে কনার সঙ্গে সাইফুল ইসলাম কিসলুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ইয়ামিন (৯) নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর জীবিকার তাগিদে কিসলু ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। কনা ও সন্তান গ্রামেই বসবাস করতেন। পরিবারের দাবি, সম্প্রতি কনা জানতে পারেন যে তার স্বামী ঢাকায় সাহিদা নামে এক নারীকে গোপনে বিয়ে করেছেন এবং তাদের শাহরিয়া নামে একটি সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি জানার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঈদুল আজহার সময় স্বামী বাড়িতে না আসায় কনার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে বিভিন্ন সূত্র ও ফোনালাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি তার কাছে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিহতের শ্বশুর নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “কিসলু দ্বিতীয় বিয়ে করেছে—এটা আমরা জানতাম না। কনা আত্মহত্যার আগে দুই পাতার একটি চিঠি লিখে গেছে। সেই চিঠি পড়ে আমরা জানতে পারি, তার মনে অনেক কষ্ট ছিল।” অপর শ্বশুর আবদুল আজিজ সিকদার বলেন, “আমার ছেলে ঢাকা গিয়ে বিয়ে করেছে—এটা আমরা জানতাম না। সেখানে তার সন্তানও আছে। সে কখনোই ওই স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসেনি।” নিহতের মা জাহানারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ের খোঁজখবর ঠিকমতো নিত না জামাই। বাড়িতেও আসত না। জামাইয়ের কারণেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।” ঘটনার পর কনার লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে তিনি স্বামীর প্রতি অভিমান, নিজের মানসিক কষ্ট এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য লিখে গেছেন। সেখানে তিনি সন্তান ইয়ামিন ও শাহরিয়ার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি মৃত্যুর জন্য ক্ষমাও প্রার্থনা করেছেন বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে সাইফুল ইসলাম কিসলুর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন