প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 8, 2026 ইং
বরগুনার আমতলীতে ডোবা-নালা সংস্কারের অভাবে জনদুর্ভোগ: মশার উপদ্রবে

-বিপর্যস্ত পৌরবাসীর জনজীবন-
আমতলী প্রতিনিধি: বরগুনার আমতলী পৌরশহরের শতাধিক ডোবা ও নালা দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরগুনার আমতলী পৌরশহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার চরম অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘদিনের অবহেলায় শতাধিক ডোবা ও নালা বর্তমানে মশা ও দুর্গন্ধের কারখানায় পরিণত হয়েছে। ১৯৯৮ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২৭ বছরেও এসব জলাধার নিয়মিত সংস্কার বা ময়লা অপসারণের কোনো টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সংলগ্ন লেক, এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজবাগ, চাওড়া, খোন্তাকাটা, বকুলনেছা মহিলা কলেজ এবং আমতলী সরকারি কলেজের আশপাশের ডোবা-নালাগুলো পচা পানির আধার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত নিয়মিত তদারকির অভাব এবং ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা না থাকায় এসব এলাকা পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর নীরব ভূমিকা পালন করায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং মশার উপদ্রব অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
পৌরশহরের ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডোবাগুলোর পচা পানি থেকে নির্গত দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির যন্ত্রণায় ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করা দায় হয়ে পড়েছে। মিঠাবাজার এলাকার বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়া জানিয়েছেন যে, ডোবাগুলো ময়লায় ভরে গেলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না, ফলে মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা গোপাল মাঝি ও অসীম মৃধার ভাষ্যমতে, রাতে এসব মশা বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের আতঙ্ক বাড়ছে। খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলীর মতে, মশা নিধনে কোনো ধরনের ফগার মেশিন বা ওষুধ ছিটানোর কার্যকর ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, যা স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ। এই জলাধারগুলোর রুট ডাইনামিক্স বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পানি নিষ্কাশন পথগুলো ময়লায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা মশার প্রজনন ক্ষেত্রকে আরও বিস্তৃত করছে।
এহেন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমতলী পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, পরিত্যক্ত ডোবা-নালাগুলো দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে মশা নিধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এই অবহেলা কাটিয়ে উঠতে কেবল মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী জানিয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌরশহরের এসব ডোবা-নালা পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনিক এই আশ্বাস বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করছে স্থানীয়দের স্বস্তি। তবে পরিবেশবাদীদের মতে, কেবল পরিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়, নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ডোবা ভরাট রোধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না করতে পারলে এই সংকট স্থায়ী রূপ নেবে এবং পৌরবাসীর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে থাকবে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সমস্যা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা নাগরিক সেবার মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। আমতলী পৌরশহরের এই পরিবেশগত বিপর্যয় কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদের যন্ত্রণার কারণ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত নগরায়নের অভাবকেও স্পষ্ট করে। দ্রুত ডোবা-নালা সংস্কার ও মশা নিধনে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ করা না হলে ভবিষ্যতে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে পৌর প্রশাসনকে অবিলম্বে দীর্ঘমেয়াদী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত ড্রেনেজ পরিষ্কারের রোডম্যাপ তৈরি করে তা বাস্তবায়নের দিকে নজর দিতে হবে, যাতে পৌরবাসী তাদের মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন