প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 15, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 6, 2026 ইং
বরগুনায় বিদেশে পাঠানোর নামে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ!

নিজস্ব প্রতিবেদক: বরগুনার বেতাগীতে সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের বাড়িতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন নাটোরের এক ভুক্তভোগী! দীর্ঘ ১৪ মাস পেরিয়ে গেলেও বিদেশ যাওয়ার কোনো সুরাহা না হওয়ায় অসহায় যুবক এখন ঋণের দায়ে জর্জরিত।
সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ছাতারবাগ গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলমের কাছ থেকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের মেহের গাজী করোনা গ্রামের বাসিন্দা প্রবাসী হৃদয় ও তার পিতা রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে! প্রায় ১৪ মাস আগে বিদেশ পাঠানোর চুক্তি সম্পন্ন হলেও অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীকে কোনো ভিসা বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেননি। ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণের শিকার হওয়ার পর অবশেষে নিজের জমাকৃত অর্থ উদ্ধারের আশায় অভিযুক্তদের নিজ বাড়িতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব এখন জনমনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি কেবল একটি আর্থিক প্রতারণার ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত জালিয়াতির নিদর্শন হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে যেখানে ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ সময় ধরে মিথ্যা আশ্বাসের বেড়াজালে আটকে রাখা হয়েছিল।
ভুক্তভোগী খোরশেদ আলমের ভাষ্যমতে, বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে তিনি বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ করে অত্যন্ত কষ্টের বিনিময়ে এই বিশাল অঙ্কের টাকা অভিযুক্তদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বর্তমানে ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং তার বৃদ্ধ মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা সত্ত্বেও তিনি ন্যায়বিচারের আশায় বরগুনার বেতাগীতে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। খোরশেদ আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তিনি অভিযুক্তের বাড়ি থেকে সরবেন না। তার পরিবারের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট এবং মায়ের অসুস্থতার বিষয়টি মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, বিদেশে পাঠানোর নামে এমন প্রতারণা নতুন নয়, তবে অত্যন্ত সুকৌশলে জালিয়াতি করার কারণে ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা পেতেও হিমশিম খাচ্ছেন। রুট ডাইনামিক্স এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকায় একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত হৃদয় ও রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং ঘটনার পর থেকেই তারা রহস্যজনকভাবে নীরবতা পালন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা এই ধরণের প্রতারকদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা মনে করছেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যদি দ্রুত এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে, তবে প্রতারিত খোরশেদ আলমের মতো আরও অনেকে একইভাবে সর্বস্বান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তদারকি ও তদন্তের মাধ্যমেই কেবল এই জালিয়াতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসা সম্ভব এবং তবেই তিনি তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা করতে পারেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হয়।
পরিশেষে, বিদেশ পাঠানোর নামে এই ধরণের অবৈধ লেনদেন ও জালিয়াতি রোধে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি। প্রবাসী হওয়ার স্বপ্নকে পুঁজি করে যারা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে, তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় না আনলে ভবিষ্যতে শ্রম অভিবাসন খাতে বিশৃঙ্খলা আরও বাড়বে। খোরশেদ আলমের মতো একজন ভুক্তভোগীকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান নিতে হওয়াটা আমাদের প্রচলিত বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতারই প্রতিফলন। এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রতারণার মামলা নয়, বরং এটি দেশের শ্রমবাজারের স্বচ্ছতা এবং অভিবাসন প্রত্যাশীদের সুরক্ষার ঘাটতিকেও উন্মোচিত করছে, যা দ্রুত নিরসন করা জরুরি।
একই দিনে পাথরঘাটায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও দালালের খপ্পরে পরে বিমানে উঠতে পারলেন না একই পরিবারের ৩ প্রবাসী!! - পাথরঘাটা, বরগুনা।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন