
বরগুনায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির নতুন নেতৃত্ব গ্রহণ: দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক মেরুকরণ। বিগত কমিটির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি---
বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) নবগঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের পরিচিতি সভা ও দোয়া মাহফিল (৬ জুন ২০২৬) তাং-এ শহরের শেরেবাংলা সড়কের ফার্মেসি পট্টিতে অবস্থিত সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বরগুনা সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা খাতের প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করা এবং শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসকের পক্ষে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন হাসান শাহিন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র বিএনপি নেতা সালেহ ফারুক, সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি ও বিজ্ঞ পিপি নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক ও ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান মাহফুজ।
মূলত শিক্ষক সমিতির নতুন নেতৃত্বকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় রাজনীতির প্রভাব ও শিক্ষকদের পেশাগত দায়বদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বিগত কার্যনির্বাহী কমিটির বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণ দাখিলের কথা বলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও উপস্থিত শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত সময়ে শিক্ষক সমিতির তহবিল তছরুপ এবং পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাপক অসংগতি ছিল, যা সাধারণ শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি নেতারা তীব্র ভাষায় উপস্থাপন করেন, পেশাজীবী সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অতীতে যারা ব্যক্তিগত ফায়দা লুটেছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যে, নতুন কমিটিকে অবশ্যই স্বচ্ছতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং বিগত দিনের সেই বিতর্কিত চর্চা থেকে বেরিয়ে এসে একটি পেশাদার ও শিক্ষকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শফিকুজ্জামান মাহফুজসহ অন্যান্য নেতারা শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষা এবং দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এখন নতুন কমিটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগকে ঢেলে সাজাতে হলে শিক্ষক সমিতিগুলোর স্বচ্ছতা অপরিহার্য। বিএনপি নেতা হুমায়ুন হাসান শাহিন তার বক্তব্যে উপস্থিত শিক্ষকদের আহ্বান জানান যেন তারা কোনো ধরনের অনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করেন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক এজেন্ডার সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করেন।
শিক্ষক নেতারা দাবি করেছেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো সংগঠনের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ থাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে বক্তারা আরও বলেন, আগামী দিনে কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক হয়রানি বরদাস্ত করা হবে না।
পরিশেষে, নবগঠিত এই কমিটির সাফল্য কামনা করে আয়োজিত দোয়া মাহফিলটি শিক্ষক সমাজকে এক নতুন সংহতির বার্তা প্রদান করেছে। বরগুনার প্রাথমিক শিক্ষা খাতে যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তা নিরসনে এই নতুন নেতৃত্ব কতটুকু কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে কৌতূহল রয়েছে। যদি এই কমিটি তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা কেবল শিক্ষকদের জন্যই নয়, বরং বরগুনার সামগ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরণের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে এই কমিটি শিক্ষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের জন্যও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।