প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং
বরগুনায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাস্তা নির্মাণ করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এ্যাডভোকেট মতিন

বরগুনা সদর উপজেলা প্রতিনিধি: বরগুনার গৌরীচন্না ইউনিয়নে কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা পদমর্যাদা ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘব করলেন বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিন।
বরগুনার ২ নং গৌরীচন্না ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের হিন্দু গ্রামের উত্তর পাড়ে দীর্ঘদিনের যাতায়াত বিড়ম্বনা নিরসনে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও বিএনপি নেতা এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিন। কোনো প্রকার রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ক্ষমতা বা জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ ছাড়াই তিনি নিজ উদ্যোগে এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ব্যবহারের মাধ্যমে মহাসড়ক থেকে গ্রামের অভ্যন্তর পর্যন্ত সংযোগ সড়কের ইট সলিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকার শত শত মানুষের দীর্ঘদিনের অবর্ণনীয় যাতায়াত কষ্টের অবসান ঘটেছে। মূলত সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় বসে না থেকে সদিচ্ছার প্রয়োগ ঘটিয়ে যেভাবে তিনি এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করেছেন, তা স্থানীয় রাজনীতি ও জনসেবার ক্ষেত্রে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসনিক জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার বাইরে গিয়েও যে জনকল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব, তা তিনি হাতে-কলমে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর ধরে এই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বর্ষা মৌসুমে কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কৃষকদের নিত্যদিনের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দেখা মেলা ভার, তবে এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিন কোনো পদের মোহে নয়, বরং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই এগিয়ে এসেছেন। প্যানেল চেয়ারম্যান-২ মানিক চন্দ্র রায়ের সাথে সমন্বয় করে বাস্তবায়িত এই কাজটি কেবল একটি ইট সলিংয়ের রাস্তা নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের প্রতি একজন নেতার দায়বদ্ধতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয়দের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের মৌলিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার এই সংস্কৃতি বর্তমান সমাজে বিরল হয়ে পড়েছে।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের এই উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট মহলে ইতিবাচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও সরকারি বরাদ্দের বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন উন্নয়নকাজ সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, তবুও এ্যাডভোকেট মতিনের এই উদ্যোগকে স্থানীয় প্রশাসনের একাংশ ইতিবাচকভাবেই দেখছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা দূর করতে এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর দ্রুত সংস্কারে এ ধরনের ব্যক্তিগত বা সামাজিক উদ্যোগকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করা প্রয়োজন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে যদি স্থানীয় নেতারা এভাবে জনগণের পাশে দাঁড়ান, তবে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হওয়া সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, এ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াসী মতিনের এই দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ প্রমাণ করে যে জনসেবার জন্য চেয়ার বা ক্ষমতার চেয়ে সদিচ্ছাই প্রধান চালিকাশক্তি। ক্ষমতার বলয়ের বাইরে থেকেও যে জনমানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখা যায়, তা এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। এই রাস্তাটি নির্মাণের ফলে এখন শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে পারছেন এবং কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজে মহাসড়কের মাধ্যমে বাজারে নিতে সক্ষম হচ্ছেন। এই উদ্যোগটি অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হতে পারে, যা ভবিষ্যতে বরগুনার গ্রামীণ জনপদে আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন