প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং
পাথরঘাটায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১২ জেলেসহ মৎস্য ও অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ

পাথরঘাটা প্রতিনিধি: বরগুনার পাথরঘাটায় বিশখালী নদীতে অবৈধ বেহুন্দী জাল ও ট্রলিং বোটসহ ১২ জেলেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। উদ্ধারকৃত মাছ নিলামে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে এবং অপরাধীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা সংলগ্ন বিশখালী নদীর পরীর খাল এলাকায় গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন পাথরঘাটা এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে অবৈধ বেহুন্দী জাল ব্যবহারকারী একটি আর্টিসানাল ট্রলিং বোট আটক করা হয়। অভিযানে ৬টি বিশাল আকৃতির বেহুন্দী জাল, ১ হাজার ২ শত লিটার ডিজেল এবং ২ হাজার ৪ শত কেজি সামুদ্রিক মাছ জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত ১২ জন জেলেকে হাতেনাতে আটক করে কোস্ট গার্ড। জব্দকৃত জাল, ডিজেল এবং মৎস্য সম্পদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৬ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আইন অমান্য করে অভয়াশ্রম ও নিষিদ্ধ এলাকায় মাছ শিকারের দায়ে এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়, যা উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আটককৃত জেলেদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মৎস্য সংরক্ষণ আইনের আওতায় দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত সামুদ্রিক মাছগুলো ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করা হয়েছে এবং প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী বা আটককৃত জেলেদের পক্ষ থেকে কোনো জোরালো সাফাই পাওয়া না গেলেও, স্থানীয় জেলেরা প্রায়ই অভিযোগ করেন যে, গভীর সমুদ্রে মাছ না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই তারা নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেন। তবে এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেহুন্দী জালের মতো ক্ষতিকারক সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাছ শিকারের ফলে সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের মুখে পড়ছে এবং ছোট মাছ নিধনের ফলে ভবিষ্যতে মৎস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জেলেদের এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং পেশাদার জেলেরা আইনি জটিলতার মুখে পড়ছেন।
অভিযান শেষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেঃ মোঃ আবুল কাশেম জানিয়েছেন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ শিকার রোধে কোস্ট গার্ড জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, আটককৃত জেলেদের পাথরঘাটার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। জব্দকৃত অন্যান্য সরঞ্জাম যেমন ডিজেল, ট্রলিং বোট এবং জালগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ সম্মিলিতভাবে এই নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অসাধু চক্র এভাবে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার সাহস না পায়। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে নিয়মিত টহল জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে বিশখালী নদী ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য নিধনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে কেবল অভিযানের মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অনিয়ন্ত্রিত জাল ও ট্রলিং বোটের ব্যবহার রোধে মৎস্যজীবীদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা অপরিহার্য। পাথরঘাটার এই অভিযানটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করবে। উপকূলীয় অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকারি বাহিনীর এমন তৎপরতা অব্যাহত রাখা এখন সময়ের দাবি।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন