প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 5, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 3, 2026 ইং
বরগুনার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি ইলিয়াস ঢাকায় গ্রেফতার

বরগুনার পাথরঘাটায় গাছ কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ইলিয়াসকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মোঃ ইলিয়াসকে অবশেষে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে র্যাব। গত ০৩ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুরে র্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং র্যাব-৩, সিপিসি-২ মগবাজার ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির হাতিরঝিল থানাধীন মহানগর আবাসিক এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। দীর্ঘদিনের পলাতক এই আসামি অত্যন্ত চতুরতার সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিল। গত ১০ মে ২০২৬ তারিখ গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীর পরিবারের সাথে ইলিয়াস ও তার সহযোগীদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ভুক্তভোগীর স্বামীকে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভুক্তভোগী গত ১১ মে মৃত্যুবরণ করলে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে পাথরঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ইলিয়াস এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় এবং বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানোর অপচেষ্টা চালায়।
ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের পারিবারিক শত্রুতা এবং গাছ কাটার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত ইলিয়াস ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হামলার সময় সাক্ষী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ভুক্তভোগীর পরিবার শুরু থেকেই ন্যায়বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছে। ঘটনার ভয়াবহতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের কারণে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছিল। অভিযুক্ত ইলিয়াস পলাতক থাকায় মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল এবং আসামিরা বিভিন্ন সময় ভিকটিম পরিবারকে হুমকি প্রদান করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ধরনের অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার হওয়া জরুরি ছিল, যা ভুক্তভোগী পরিবারকে কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রদান করেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত অন্যান্য সহযোগীদেরও দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৮ এর কোম্পানি অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদ জানিয়েছেন, হত্যার ঘটনার পর থেকেই র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে। র্যাব-৮ এর চৌখস দল গত ১৭ মে এই মামলার অপর এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর থেকেই প্রধান আসামি ইলিয়াসকে ধরতে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখে। প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অবশেষে মহানগর আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ইলিয়াসকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ডিএমপির হাতিরঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাখিল করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশের সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য মদদদাতাদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।
এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে স্থানীয় এলাকায় বিরাজমান দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কিছুটা প্রশমিত হলেও অপরাধীদের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে গভীর আগ্রহ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া এখন সময়ের দাবি, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে। পরিবহন বা এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যেন কোনো অপরাধী পার না পেতে পারে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপক্ষের কঠোর অবস্থানই কেবল ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রকৃত ন্যায়বিচার দিতে পারে। ইলিয়াসের গ্রেফতারের পর এখন পুরো এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, মামলার চার্জশিট গঠন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীর ফাঁসি বা সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করা হবে। এই মামলার ফলাফল স্থানীয় অপরাধ চক্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে এবং সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
© স্বত্বাধিকার : আবেদীন প্রিন্টিং প্রেস ও সোহাগ কনস্ট্রাকশন